বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের মালয়েশিয়া যেতে ভিসা লাগে। তবে এখন আর দূতাবাসে লাইন দিতে হয় না — পুরো আবেদন অনলাইনে হয়, আর অনুমোদিত ই-ভিসা ইমেইলে চলে আসে। এই গাইডে ধাপে ধাপে সব জানানো হলো।
মালয়েশিয়া ই-ভিসা কী?
ই-ভিসা হলো মালয়েশিয়ার অনলাইন ভিসা। ট্যুরিস্ট ই-ভিসায় প্রতিবার প্রবেশে সর্বোচ্চ ৩০ দিন থাকা যায়, আর মালয়েশিয়ার ভেতরে গিয়ে মেয়াদ বাড়ানো যায় না। তাই ভ্রমণের তারিখ ভেবেচিন্তে ঠিক করুন। ই-ভিসাটির মেয়াদ ইস্যুর তারিখ থেকে ৬ মাস — এর মধ্যে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে হবে।
কী কী কাগজপত্র লাগবে
- পাসপোর্ট — মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর দিন থেকে কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে। ছবিসহ পাতাটির পরিষ্কার স্ক্যান বা ছবি।
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি — সাম্প্রতিক, রঙিন, সাদা বা হালকা ব্যাকগ্রাউন্ড, মুখ পরিষ্কার দেখা যায়।
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট — সাধারণত গত ৩ মাসের।
- রিটার্ন টিকেট ও হোটেল বুকিং — দিলে আবেদন শক্তিশালী হয়।
- আগের বিদেশ ভ্রমণের ভিসা বা সিল থাকলে সেগুলোর কপি (ঐচ্ছিক)।
ধাপে ধাপে আবেদন
- Apply now পেজে গিয়ে ভিসার ধরন (Tourist) ও ভ্রমণের তারিখ দিন।
- পাসপোর্টের ছবির পাতা আপলোড করুন — নাম, পাসপোর্ট নম্বর, জন্মতারিখ নিজে থেকেই পূরণ হয়ে যাবে। তবু প্রতিটি ঘর পাসপোর্টের সাথে মিলিয়ে নিন।
- ছবি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও অন্যান্য কাগজ আপলোড করুন। পরিবারের সবাই গেলে প্রত্যেককে আলাদা ট্রাভেলার হিসেবে যোগ করুন — হোটেল বুকিং, টিকেটের মতো কাগজ একবার দিলেই হয়।
- সব তথ্য আরেকবার দেখে নিন।
- টাকায় (BDT) পেমেন্ট করুন — বিকাশ, নগদ, কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং (SSLCommerz)।
- আমাদের টিম আপনার কাগজ যাচাই করে জমা দেবে। কিছু ঠিক করতে হলে আমরা জানাব।
- অনুমোদন হলে ই-ভিসা ইমেইলে পাবেন — প্রিন্ট করে পাসপোর্টের সাথে রাখুন।
কত দিন লাগে?
বেশিরভাগ আবেদনে কয়েক কর্মদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত আসে। তবে ভিড়ের সময় বা অতিরিক্ত কাগজ চাইলে বেশি সময় লাগতে পারে। তাই ফ্লাইটের অন্তত ২–৩ সপ্তাহ আগে আবেদন করুন। আবেদনের অবস্থা যেকোনো সময় ট্র্যাকিং পেজে রেফারেন্স নম্বর দিয়ে দেখতে পারবেন।
যাওয়ার আগে MDAC পূরণ করুন
ই-ভিসা পাওয়ার পরও একটা কাজ বাকি থাকে: Malaysia Digital Arrival Card (MDAC)। এটা বিনামূল্যের একটি অনলাইন ফর্ম, পৌঁছানোর আগের ৩ দিনের মধ্যে প্রত্যেক যাত্রীকে (শিশুসহ) আলাদা করে জমা দিতে হয়। অফিসিয়াল সাইট: imigresen-online.imi.gov.my/mdac/main। MDAC-এর জন্য কেউ টাকা চাইলে বুঝবেন সেটা ভুয়া সাইট।
যেসব ভুলে আবেদন আটকে যায়
- নামের বানান বা পাসপোর্ট নম্বরে ভুল
- ঝাপসা বা কাটা পাসপোর্ট স্ক্যান
- সেলফি, ফিল্টার বা গাঢ় ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবি
- মাত্র ১ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বা হঠাৎ বড় অঙ্কের জমা
- অফিসার কাগজ চাইলে দেরিতে উত্তর দেওয়া
বিস্তারিত পড়ুন: ই-ভিসা রিজেক্ট হওয়ার ১০টি কারণ (ইংরেজিতে)।
কোনো প্রশ্ন?
যেকোনো প্রশ্নে WhatsApp-এ আমাদের মেসেজ করুন। অথবা এখনই আবেদন শুরু করুন।
কেন আমাদের মাধ্যমে আবেদন করবেন?
- জমা দেওয়ার আগে প্রতিটি কাগজ যাচাই — ঝাপসা স্ক্যান, নামের অমিল বা কাগজ বাদ পড়া আমরা আগেই ধরি; দেরি বা রিজেক্টের সবচেয়ে বড় কারণ এগুলোই।
- পুরো পরিবারের আবেদন একসাথে — প্রত্যেকের স্ট্যাটাস আলাদা দেখা যায়।
- সহজ পেমেন্ট — কার্ড, ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেটে, টাকায়।
- মানুষের সাহায্য — আবেদনের আগে ও পরে WhatsApp-এ আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
- প্রতিটি ধাপের লাইভ ট্র্যাকিং ও ইমেইল আপডেট, আর ই-ভিসা তৈরি হলে সরাসরি ডাউনলোড।
evisamalaysia.net একটি স্বাধীন ভিসা আবেদন সেবা (FLY CARE-এর প্ল্যাটফর্ম) — আমরা মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ নই।